21st BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 21st BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
6টি বিষয়ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অন্যতম ভাষাতাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক মাস্টারপিস হলো ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’। বিসিএস প্রস্তুতিতে বাংলা ভাষার ইতিহাস ও উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর জন্য এ ধরনের গ্রন্থ ও লেখকের নাম মুখস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বন্ধু রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিশুকন্যা প্রভাবতীর অকালমৃত্যুতে এটি একটি হৃদয়বিদারক শোকগাঁথা হিসেবে রচিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা। বিসিএসে বিদ্যাসাগরের মৌলিক ও অনূদিত গ্রন্থগুলো প্রায়ই পৃথক করতে দেওয়া হয়, তাই এটি ভালোভাবে মনে রাখবেন।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলায় প্রথম সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তন করেন এবং ১৮৬৬ সালে তাঁর সনেটগুলো নিয়ে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ সংকলন প্রকাশ করেন। বিসিএস পরীক্ষায় মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম এবং সনেটের প্রবর্তক হিসেবে তাঁর নাম বারবার এসেছে।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিষের বাঁশী’ (১৯২৪) একটি বিখ্যাত জাগরণমূলক ও বিদ্রোহী কাব্যগ্রন্থ, যা প্রকাশের সাথে সাথেই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। বিসিএসের জন্য নজরুলের নিষিদ্ধ গ্রন্থসমূহ (যেমন- ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, চন্দ্রবিন্দু) এবং প্রকাশের সালগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মৌলিক নাটক, যা ১৯৪৬ সালের সংঘটিত ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত। বিসিএস পরীক্ষায় মুনীর চৌধুরীর নাটকের তালিকা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই ‘কবর’ ও ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’-এর মতো নাটকগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন।
‘চাঁদের হাট’ একটি জনপ্রিয় বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থ চাঁদের মেলা হলেও এর প্রকৃত ভাবার্থ হলো আনন্দঘন পরিবেশে ‘প্রিয়জন সমাগম’। বিসিএসের বাংলা ব্যাকরণ অংশে বাগধারার অন্তর্নিহিত অর্থ নির্ণয়ে এমন বিভ্রান্তিকর অপশন প্রায়ই থাকে, তাই ভাবার্থ বুঝে উত্তর করতে হবে।
বানানের নিয়ম অনুযায়ী ‘শুচিস্মিতা’ শব্দটিতে প্রথম ও শেষ উভয় ই-কারই হ্রস্ব-ই (ি) হবে, যার অর্থ সুন্দর বা মৃদু হাসিযুক্ত নারী। বিসিএসের বানান শুদ্ধি পর্বে এই ধরনের তৎসম শব্দগুলো প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়।
বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের নিয়ম অনুযায়ী ‘কর্মে যাহার ক্লান্তি নাই’ কথাটির সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ‘অক্লান্তকর্মী’। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে এককথায় প্রকাশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসায় এ ধরনের তুলনামূলক সহজ ও প্রচলিত শব্দগুলোর সঠিক রূপ চর্চা করা আবশ্যক।
ণ-ত্ব বিধানের মূল ব্যাকরণিক নিয়ম হলো—এটি শুধুমাত্র তৎসম বা সংস্কৃত শব্দেই প্রযোজ্য, খাঁটি বাংলা বা বিদেশি শব্দে কখনো মূর্ধন্য-ণ হয় না। বিসিএসের বাংলা ব্যাকরণ অংশে ‘কোন শব্দে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য’—এই ট্রিকি প্রশ্নটি প্রায়ই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেখা যায়।
বাংলা বাক্যের গঠনরীতি অনুযায়ী অর্থ স্পষ্ট থাকলে অনেক সময় বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অদৃশ্য থাকতে পারে, যেমন ‘ফুলটি সুন্দর’ বাক্যে ‘হয়’ ক্রিয়াটি উহ্য রয়েছে। বিসিএসের ব্যাকরণ অংশে বাক্য প্রকরণ ও পদের ব্যবহার বুঝতে এই সূক্ষ্ম নিয়মটি মাথায় রাখা জরুরি।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি বা উপদেশ বোঝানোর বিশেষ রীতিকে অনুজ্ঞা বলে, যার চমৎকার উদাহরণ হলো ‘তুমি যাও’। বিসিএস পরীক্ষায় ভাব ও অনুজ্ঞার পার্থক্য নির্ণয় করতে এই নির্দিষ্ট সংজ্ঞার্থগুলো কাজে লাগে।
প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট ও বাক্যরীতি অনুযায়ী অনেক সময় শব্দের আক্ষরিক অর্থ না বুঝে তার রূপক বা অন্তর্নিহিত অর্থ ধরতে হয়, যেমন এখানে ‘মুখ’ বলতে বাক্যের বা দাবির ‘শক্তি’ বা সামর্থ্যকে বোঝানো হয়েছে। বিসিএসের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা যাচাইমূলক প্রশ্নগুলোতে এমন প্রবাদ-প্রবচনের ভাবার্থ প্রায়ই পরীক্ষককে বিভ্রান্ত করে।
‘মুমূর্ষু’ বানানটিতে প্রথম উ-কার হ্রস্ব-উ (ু) এবং দ্বিতীয় উ-কার দীর্ঘ-উ (ূ) হওয়ার পর আবার হ্রস্ব-উ (ু) বসে, যা বাংলা বানানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কমন একটি ব্যতিক্রমী নিয়ম। বিসিএসের বানান শুদ্ধিকরণ অংশে পূর্ণ নম্বর পেতে এই জটিল বানানটি বারবার লিখে চর্চা করা উচিত।
‘বিরাগী’ শব্দটির মূল আক্ষরিক ও কাব্যিক অর্থ হলো আসক্তিমুক্ত বা ‘উদাসীন’, যা সাধারণ অনুরাগী শব্দের ঠিক বিপরীত। বিসিএসের সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এমন কাব্যিক শব্দগুলোর সঠিক অর্থ জানা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
‘ব্রজবুলি’ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কথ্য ভাষা নয়, বরং মৈথিলী ও বাংলা ভাষার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম কাব্যভাষা যা বৈষ্ণব পদাবলীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিসিএস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ ব্রজবুলি ভাষায় রচিত—এই তথ্যটি বারবার পরীক্ষণে আসে।
সঠিক উত্তর **চণ্ডীদাস**। মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচিয়তা কবি চণ্ডীদাস এই অমর বাণীটি উচ্চারণ করেছিলেন। বিসিএস প্রস্তুতিতে মনে রাখবেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চণ্ডীদাস তিনজন—বড়ু চণ্ডীদাস (শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা), দ্বিজ চণ্ডীদাস এবং দীন চণ্ডীদাস।
সঠিক উত্তর **চতুরঙ্গ**। এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯১৬ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক এবং সাধুভাষায় লিখিত সর্বশেষ উপন্যাস। বিসিএস পরীক্ষার জন্য এই উপন্যাসের চারটি চরিত্র (জ্যাঠামশাই, শচীন, দামিনী ও শ্রীবিলাস) খুব ভালোভাবে মনে রাখবেন।
সঠিক উত্তর **কয়েকটি কবিতা**। এটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক কবি সমর সেনের ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ। বিসিএস প্রশ্ন প্রায়ই কবি ও তাঁদের প্রথম বা প্রধান কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আসে, তাই এটি নোট করে রাখুন।
সঠিক উত্তর **সাজাহান**। এটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি.এল. রায়) কর্তৃক রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত নাটক। বিসিএস পরীক্ষায় বাংলা নাটকের অমর সৃষ্টি এবং নাট্যকারদের নাম প্রায়ই পরীক্ষণে আসে।
সঠিক উত্তর **সুকুমার রায়**। ‘আবোল-তাবোল’ বাংলা শিশুসাহিত্যের এক অনন্য মাস্টারপিস যার রচয়িতা সুকুমার রায়। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে তাঁর ছদ্মনাম ‘উহ্যনাম পণ্ডীত’ এবং তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও পুত্র সত্যজিৎ রায় সম্পর্কিত তথ্যগুলো প্রায়ই কমন পড়ে।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন