17th BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 17th BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
7টি বিষয়মহাপণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের মূল পুঁথি ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তাঁর সম্পাদনাতেই ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিসিএস প্রস্তুতিতে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কারের সাল এবং প্রথম প্রকাশের সাল প্রায়ই বিভিন্ন পরীক্ষায় আসে।
মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার অন্যতম প্রখ্যাত ও প্রতিভাবান কবি আলাওল হিন্দি কবি মালিক মোহাম্মদ জায়সীর সুফি প্রেমগাথা ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের এই ধ্রুপদী মহাকাব্যটি পরবর্তী সময়ে বিশিষ্ট গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’র মুখপত্র হিসেবে ১৮৪৩ সালে এই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার ও প্রসার ছিল এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য, যার প্রথম সম্পাদক ছিলেন স্বয়ং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই প্রাচীন সংবাদপত্র ও তাদের সম্পাদকের নাম সম্পর্কিত প্রশ্ন দেখা যায়।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, উপসর্গ সবসময় শব্দ বা ধাতুর ঠিক সামনে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে, পক্ষান্তরে প্রত্যয় বসে শব্দ বা ধাতুর পেছনে। এই অবস্থানের পার্থক্যের জন্যই এদের মূল কার্যক্রমে ভিন্নতা দেখা যায়। বিসিএসে শব্দগঠনের এই মৌলিক পার্থক্য থেকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
বাংলা ছন্দের অন্যতম জনপ্রিয় ধারা হলো স্বরবৃত্ত ছন্দ, যাকে অনেক সময় লৌকিক বা দলবৃত্ত ছন্দও বলা হয়ে থাকে এবং এর মূল পর্বের নির্দিষ্ট মাত্রা সংখ্যা সবসময় চার হয়। অন্যদিকে অক্ষরবৃত্তে ৮ বা ১০ এবং মাত্রাবৃত্ত ছন্দে সাধারণত ৬ মাত্রার পর্ব থাকে।
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শেষ মঙ্গলকাব্য রচিয়তা কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের একটি অমর পঙ্ক্তি হলো ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। এই ঐতিহাসিক উক্তিটি করেছিলেন কাব্যটির চরিত্র ঈশ্বরী পাটনী। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ থেকে আসা প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রশ্ন।
দৈনন্দিন ব্যবহৃত ‘বালতি’ একটি পর্তুগিজ শব্দ, যা বাংলা ভাষায় সফলভাবে আত্তীকৃত হয়েছে। বিসিএস বাংলা ব্যাকরণে বিদেশি শব্দ (বিশেষ করে পর্তুগিজ ও আরবি-ফার্সি) চেনার জন্য এ ধরনের শব্দ তালিকা আয়ত্ত করা আবশ্যক।
‘লাঠালাঠি’ শব্দটির ব্যাসববাক্য হলো ‘লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই’। একই পদের পারস্পরিক সংঘর্ষ বা লড়াই বোঝালে সেটি সবসময় ‘ব্যতিহার বহুব্রীহি’ সমাস হয়, যেমন—হাতাহাতি, কানাকানি বা চুলোচুলি। বাংলা ব্যাকরণের সমাস অংশ থেকে এই নিয়মের প্রশ্ন প্রায়ই বিসিএস পরীক্ষায় দেখা যায়।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। সহজ কথায়, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা বা প্রাকৃত ভাষাই হলো বাংলা ভাষার মূল উৎস। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য ও বাংলা ভাষার উৎপত্তি সংক্রান্ত এই তথ্যটি বিসিএস বাংলা ব্যাকরণের জন্য অপরিহার্য।
অর্থ বা ভাবগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়—যৌগিক, রূঢ় বা রূঢ়ি এবং যোগরূঢ় শব্দ। অন্যদিকে উৎসের ভিত্তিতে পাঁচ ভাগে এবং গঠনগত দিক থেকে দুই ভাগে শব্দ বিভক্ত করা হয়। ব্যাকরণের এই শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন কমন আসে, তাই প্রতিটি ভাগের সংজ্ঞা ও উদাহরণ ভালোভাবে আয়ত্ত করুন।
‘মানবজীবন’, ‘মহৎজীবন’ ও ‘উন্নতজীবন’-এর মতো প্রখ্যাত ও জীবনঘনিষ্ঠ প্রবন্ধগ্রন্থগুলোর রচয়িতা হলেন চিন্তাশীল সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক ডা. মো লুৎফর রহমান। তাঁর লেখাগুলো সমাজ সংস্কার ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। বিসিএস সাহিত্য অংশে জনপ্রিয় লেখকদের বিখ্যাত গ্রন্থ ও তাদের আত্মোন্নয়নমূলক রচনাগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।
মুসলিম রেনেসাঁর শক্তিশালী কবি ফররুখ আহমদের একটি অনন্য সৃষ্টি হলো ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যগ্রন্থটি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ এবং প্রথম বাঙালি হিসেবে ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করার বিষয়টি বিসিএসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী পদের প্রথম বর্গের ট-ধ্বনির সাথে পরবর্তী স্বরধ্বনি যুক্ত হয়ে এটি বর্গের তৃতীয় বা ড-ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘ড়’ রূপ ধারণ করে ‘ষড়ঋতু’ গঠন করে। বিসিএস ব্যাকরণ অংশে সন্ধি থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসায় এই নিয়মের প্রয়োগগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা আবশ্যক।
বিখ্যাত প্রাবন্ধিক ও বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করতেন। তাঁর সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা এবং বাংলা কাব্যে ইতালীয় সনেট প্রবর্তনের ইতিহাস বিসিএস সাহিত্য প্রশ্নের অন্যতম প্রিয় একটি টপিক।
‘লাপাত্তা’ শব্দটিতে ব্যবহৃত ‘লা’ উপসর্গটি একটি বিদেশি উপসর্গ যা মূলত আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন শব্দের উৎস ও উপসর্গ চিহ্নিতকরণ থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে, তাই আরবি ও ফারসি উপসর্গের পার্থক্য জেনে রাখা ভালো।
বিশিষ্ট গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. ওয়াকিল আহমদ প্রবন্ধ সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের প্রাপ্ত পুরস্কারের সাল ও ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা জরুরি।
উল্লिखित পংক্তিটি মানবতাবাদী বাউলসাধক ও মরমী কবি লালন শাহের কালজয়ী একটি গানের অংশ, যেখানে তিনি কৃত্রিম জাতিভেদ ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমের কথা বলেছেন। বাংলা সাহিত্যের মরমী কবি ও বাউল গান থেকে বিসিএসে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
ব্যাকরণের বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের নিয়মানুযায়ী ‘অক্ষির সমীপে’ বা চোখের সামনে বোঝাতে ‘সমক্ষ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিসিএস বাংলা ব্যাকরণ অংশে এককথায় প্রকাশ ও বাক্য শুদ্ধি থেকে নিশ্চিত নম্বর পাওয়ার জন্য নিয়মিত চর্চা করা উচিত।
যে বাক্যে কেবল একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে; আলোচ্য বাক্যটি এই ব্যাকরণগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। বাক্য রূপান্তর ও প্রকারভেদ নির্ণয় বিসিএস ব্যাকরণের একটি অন্যতম নিয়মিত ও সহজ টপিক।
প্রশ্নে উল্লেখিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক পঙক্তিটি বাংলা সাহিত্যের 'ছন্দের জাদুকর' খ্যাত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'বেণু ও বীণা' কাব্যের অন্তর্গত 'খাঁটি সোনা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। বিসিএস সাহিত্য অংশে কবিদের বিখ্যাত পঙক্তি এবং তাঁদের ছদ্মনাম বা উপাধি (যেমন: ছন্দের জাদুকর) থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন