26th BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 26th BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
6টি বিষয়সঠিক উত্তর হলো 'গীতিকা'। Ballad শব্দের বাংলা পরিভাষা ‘গীতি-কাহিনি কাব্য’ বা ‘গীতিকা’। এই শব্দটি ল্যাটিন Balare থেকে এসেছে। ইউরোপে প্রাচীনকালে নাচের সাথে যে কবিতা গীত হতো তাকেই ‘Ballad’ বা গীতিকা বলা হতো।
সঠিক উত্তর হলো 'ফেরদৌসী'। ইরানের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘শাহ্নামা’ গজনির রাজবংশের অধিপতি সুলতান মাহমুদের রাজসভার কবি আবুল কাসিম মনসুর ‘ফেরদৌসী’ রচনা করেন। এটিকে ইরানের জাতীয় মহাকাব্য বলা হয়।
সঠিক উত্তর হলো 'বাংলা সাহিত্যের কথা'। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার কর্মময় জীবনে বহু গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। তার রচিত গবেষণা ও ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ (১ম খণ্ড ১৯৫৩, ২য় খণ্ড ১৯৬৫), বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১) ইত্যাদি। ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থটি লিখেছেন ডা. দীনেশচন্দ্র সেন; ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ (প্রবন্ধ/৪ খণ্ড) গ্রন্থটি লিখেছেন ড. সুকুমার সেন এবং ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (প্রবন্ধ) লিখেছেন মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে।
সঠিক উত্তর হলো 'ফারসি + আরবি'। ‘চৌ-হদ্দি’ হলো চৌ + হদ্দি। এখানে ‘চৌ’ অংশটুকু ফারসি এবং ‘হদ্দ’ অংশটুকু আরবি ভাষার শব্দ। ফারসি ‘চৌ’ অর্থ চার এবং ‘হদ্দ’ অর্থ সীমানা। সুতরাং চৌ-হদ্দি শব্দের অর্থ চতুঃসীমা। যেমন- বাড়ি বা জমির চৌহদ্দি।
সঠিক উত্তর হলো 'জ্ঞানদাস'। চৈতন্য পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলির কবি জ্ঞানদাস (ষোড়শ শতাব্দী) রচিত উক্ত পদটি কৃষ্ণানুরাগ বিষয়ক বিখ্যাত পদ। তাঁর রচিত পদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য; মাধুর্য ও সূক্ষ্মতা একমাত্র চণ্ডীদাসের পদের সাথেই তুলনা হতে পারে। আক্ষেপানুরাগ, রূপানুরাগ ও মাথুরবিষয়ক পদ রচনায় তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। তাঁর কয়েকটি উক্তি- ক) “রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁন্দে প্রতি অঙ্গ মোর।” খ) “সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয় সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।”
সঠিক উত্তর হলো 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'। ‘সাজাহান’ প্রথম ঐতিহাসিক সার্থক নাটক। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত এ নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তিনি ডি. এল. (D. L.) রায় নামে পরিচিত। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) রচিত অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটকের মধ্যে রয়েছে- নূরজাহান (১৯০৮), প্রতাপসিংহ (১৯০৫), সিংহল বিজয় (১৯১৬), তারাবাঈ, সোহরাব রুস্তম, চন্দ্রগুপ্ত, দুর্গাদাস, রাণা প্রতাপসিংহ।
সঠিক উত্তর হলো 'ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর'। নেমেসিস (১৯৪৮) নাটকে নূরুল মোমেন (১৯০৬-১৯৮৯) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাবলি এ নাটকের উপজীব্য নয়। নাটকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত পঞ্চাশের মন্বন্তর (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) বা ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষকে উপজীব্য করে রচিত। ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক: রূপান্তর, নয়া খান্দান, শতকরা আশি (নিরক্ষরতা দূরীকরণ বিষয়ক), আলো ছায়া, যদি এমন হতো, আইনের অন্তরালে।
সঠিক উত্তর হলো 'কৃষ্ণনগর রাজসভা'। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠারো শতকের বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কবি। তিনি নবদ্বীপাধিপতি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় ‘সভাকবি’ নিযুক্ত হন। কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি ‘অন্নদামঙ্গল’ (১৭৫২) কাব্যটি রচনা করেন। পরবর্তীতে এ রচনা তাকে মহারাজ কর্তৃক ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করিয়ে দেয়। তিনিই মধ্যযুগের শেষ কবি।
সঠিক উত্তর হলো 'প্রযোজ্য ধাতু'। সঠিক হবে প্রযোজক ধাতু। মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে ধাতু গঠিত হয় তাকেই প্রযোজক বা ণিজন্ত ধাতু বা কখনও কখনও কর্মবাচ্যের ধাতু বলা হয়। অন্যদিকে, নাম ধাতু হলো বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে গঠিত ধাতু এবং সংযোগমূলক ধাতু হলো বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতুর সংযোগে গঠিত ধাতু। যেমন- ঘুম (বিশেষ্য) + আ + ক্রিয়া বিভক্তি = ঘুমাচ্ছে (নাম ধাতু); যোগ (বিশেষ্য) + কর (ধাতু) = যোগ কর (সংযোগমূলক ধাতু)।
সঠিক উত্তর হলো 'দ্বিজ কানাই'। মহুয়া ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল থেকে সংগৃহীত একটি পালা গান। দ্বিজ কানাই প্রণীত এই পালা চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তা ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পরের বছরই, অর্থাৎ ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে এর বাংলা বিভাগ খোলা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তরুণ ব্রিটিশ শাসকদের এদেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোই ছিল এই কলেজের মূল উদ্দেশ্য। বিসিএস প্রিপারেশনের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা সাল (১৮০০) এবং বাংলা বিভাগের চালুর সাল (১৮০১) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
১৭৭৮ সালে ইংরেজ পণ্ডিত নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রথম বাংলা টাইপ বা মুদ্রাক্ষর ব্যবহার করে ‘A Grammar of the Bengal Language’ ব্যাকরণ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও ১৭৪৩ সালে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ ও শব্দকোষ রচনা করলেও তা রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ এবং প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণের মধ্যে এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি ঘুরিয়ে আসে।
তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র হিসেবে ১৮৪৩ সালে প্রকাশিত ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অক্ষয়কুমার দত্ত। এ সময় বাংলা গদ্যের বিকাশ ও সমাজ সংস্কারে পত্রিকাটি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল। বিসিএস পরীক্ষায় উনিশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও তাদের সম্পাদক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
‘কমলে কামিনী’ হলো বিখ্যাত নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের একটি অন্যতম বিখ্যাত নাটক। তাঁর ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি বাংলা নাট্যসাহিত্যে বিপ্লব এনেছিল, যা বিসিএস পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক।
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘বৃত্রসংহার’ (১৮৭৫-১৮৭৭) একটি সার্থক বাংলা মহাকাব্য, যার মূল বিষয়বস্তু দেবরাজ ইন্দ্র ও অসুর বৃত্রাসুরের লড়াই। কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর রচনার ওজস্বী ও বীররসের জন্য ‘বাংলার মিল্টন’ বলা হয়। বিসিএস পরীক্ষায় বাংলা মহাকাব্য এবং এর রচিয়তাদের নাম প্রায়ই কমন থাকে।
‘বত্রিশ সিংহাসন’ (১৮০২) গদ্যগ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রখ্যাত পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের একটি অসামান্য রচনা। উইলিয়াম কেরির উৎসাহে তিনি রাজাবলি, হিতোপদেশ ও বেদান্তচন্দ্রিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থও রচনা করেন। বিসিএস-এ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের অবদান থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি পিয়ারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর) রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮)-এর একটি অমর সৃষ্টি। এই উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা কথাসাহিত্যে মূলত আলালী ভাষা বা সহজ সরল কথ্যরীতির সূত্রপাত ঘটেছিল। বিসিএস পরীক্ষার জন্য উপন্যাসের চরিত্র ও রচিয়তার নাম মুখস্থ রাখা বাধ্যতামূলক।
‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ (১৮৯০) হলো মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস, যেখানে তিনি ‘উদাসীন পথিক’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এই উপন্যাসে লেখকের পারিবারিক ইতিহাস ও তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’ এবং এই আত্মজৈবনিক উপন্যাসটি বিসিএস সিলেবাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ ফরীদুদ্দীন সাত্তারের ফারসি গ্রন্থ ‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ অবলম্বনে বাংলায় ‘তাপসমালা’ রচনা করেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন। তিনি দীর্ঘ ছয় বছর পরিশ্রম করে প্রথম পূর্ণাঙ্গ পবিত্র কোরআন শরীফ বাংলায় অনুবাদ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। অনুবাদ সাহিত্য ও গিরিশচন্দ্র সেনের এই অবদান বিসিএস পরীক্ষার জন্য খুবই জনপ্রিয়।
‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসী’ বরেণ্য নাট্যকার সেলিম আল দীনের একটি বিখ্যাত প্রতীকাশ্রয়ী ও রাজনৈতিক কৌতুক নাটক। বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরাচারী শাসনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা ও দুর্নীতির রূপ ফুটিয়ে তুলতে তিনি এটি রচনা করেন। বিসিএস-এ আধুনিক নাট্যকার ও তাঁদের বিখ্যাত নাটকগুলোর নাম প্রায়ই পরীক্ষণে আসে।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন